google.com, pub-8608639771527197, DIRECT, f08c47fec0942fa0

সালাহউদ্দিন আহমেদের জীবনী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সালাহউদ্দিন আহমেদ একটি পরিচিত নাম। কক্সবাজারের মাটি থেকে উঠে আসা এই নেতা আজ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর জীবনী শুধু রাজনৈতিক সাফল্যের গল্প নয়, বরং সংগ্রাম, ত্যাগ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য দলিল।

Table of Contents

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজার জেলার তৎকালীন বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী ছাঈদুল হক এবং মাতা বেগম আয়েশা হক ছিলেন সমাজমান্য ব্যক্তিত্ব।

শৈশব থেকেই মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। পেকুয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় রেকর্ড নম্বর অর্জন করেন। এরপর চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচএসসি পাস করেন।

উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৪ সালে তিনি এলএলবি (সম্মান) এবং ১৯৮৬ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি আইনজীবী হিসেবে সনদ লাভ করেন।

১৯৮৫ সালে তিনি ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রশাসনিক চাকরিতে যোগদান করেন।

আরও জানতে পারেনঃ হাসনাত আবদুল্লাহ এর জীবনী

কর্মজীবন ও রাজনীতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের শুরু। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন।

প্রশাসনিক চাকরিতে থাকাকালে ১৯৯১ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে পূর্ণদমে রাজনীতিতে যোগ দেন।

ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। তার উদ্যোগেই ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনী ইতিহাস

সালাহউদ্দিন আহমেদের নির্বাচনী সাফল্য অনন্য। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি ৭২,৫৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি ১,৩৪,৬০২ ভোট পান। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি ২,২২,০১৯ ভোট অর্জন করেন, যা তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রমাণ।

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

অপহরণ

২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কিছু মুখোশধারী ব্যক্তি সালাহউদ্দিন আহমেদকে অপহরণ করে। দীর্ঘ ৬২ দিন তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

২০১৫ সালের ১১ মে তাকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং শহরে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ভারতীয় পুলিশ অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেয়। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালতও তাকে খালাস দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

সমালোচনা ও বিতর্ক

২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট পেকুয়ায় একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এস আলম গ্রুপের গাড়িতে চড়ে আসলে সমালোচনার মুখে পড়েন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জানান, স্থানীয় নেতাদের ব্যবস্থায় তিনি সেই গাড়িতে আসেন।

তথ্যসূত্র

সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের এক অনন্য উদাহরণ। প্রশাসনিক চাকরি থেকে শুরু করে মন্ত্রী পদ পর্যন্ত তাঁর অগ্রযাত্রা অন্যদের জন্য প্রেরণার উৎস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top