google.com, pub-8608639771527197, DIRECT, f08c47fec0942fa0

ঢাকা থেকে কলকাতা বিমানের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ | সম্পূর্ণ গাইড

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো আকাশপথ। 특히 কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে ফ্লাইটের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক যাত্রীই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় ঢাকা থেকে কলকাতা বিমানের সময়সূচী ও ভাড়া নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। কোন এয়ারলাইন্সে কত ভাড়া, কোন সময়ে ফ্লাইট ছাড়ে, লাগেজ নিয়ে কী নিয়ম—এইসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের এই বিস্তারিত আর্টিকেল। আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে আপনাদের জন্য এই গাইড তৈরি করেছি। আশা করি, এটি আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ করে দেবে।

Table of Contents

ঢাকা-কলকাতা রুটে ফ্লাইটের সময়সূচী

বর্তমানে এই রুটে একাধিক এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সময়সূচী কিছুটা পরিবর্তনশীল হলেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী প্রধান ফ্লাইটগুলোর সময় নিচে দেওয়া হলো।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এই রুটে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করে। ঢাকা থেকে প্রথম ফ্লাইটটি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ছাড়ে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ছাড়ে। কলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফ্লাইট ছাড়ে সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে এবং রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে। এই সময়সূচী যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা সকালে বা সন্ধ্যায় ভ্রমণের অপশন পাচ্ছেন।

নভোএয়ার (NovoAir)

নভোএয়ার বর্তমানে ঢাকা – কলকাতা – ঢাকা রুটে প্রতিদিন ১টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়। এই সময়টি অনেক যাত্রীর জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা সকালের কাজ শেষ করে দুপুরের পর যাত্রা করতে পারেন।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও এই রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। তবে এই এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সময়সূচী প্রায়শই পরিবর্তিত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তারা দিনে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করে, যার মধ্যে সকাল ও বিকেলের ফ্লাইট রয়েছে। সঠিক সময় জানতে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখার অনুরোধ থাকলো।

ভাড়ার বিবরণ (২০২৬ – সর্বশেষ আপডেট)

ভাড়া নির্ভর করে টিকিট কেনার সময়, সিটের availability, এবং এয়ারলাইন্সের প্রোমোশনাল অফার এর উপর। নিচে প্রতিটি এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন শ্রেণীর ভাড়ার একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো।

এয়ারলাইন্সইকোনমি ক্লাস (সর্বনিম্ন)ইকোনমি ক্লাস (সর্বোচ্চ)অনলাইন টিকিট
বিমান বাংলাদেশ৯,৫০০ টাকা (সুপার সেভার)১৪,৫০০ টাকাwww.biman-airlines.com
নভোএয়ার৪,০০০ টাকা (স্পেশাল প্রোমো)৮,৫০০ টাকাwww.flynovoair.com
ইউএস-বাংলা১৪,০০০ টাকা১৫,০০০ টাকাusbair.com
ইন্ডিগো১০,০০০ টাকা (সুপার সেভার)১৬,০০০ টাকাwww.goindigo.in
ভিস্তারা২২,০০০ টাকা (সুপার সেভার)৩৫,০০০ টাকাwww.airvistara.com
মালিন্দো এয়ারওয়েজ৪৮,০০০ টাকা (সুপার সেভার)৬২,০০০ টাকাwww.malindoair.com

মন্তব্য: উপরের ভাড়াগুলো পরিবর্তনশীল। উৎসবের সময় বা হাই সিজনে ভাড়া বাড়তে পারে। সবচেয়ে সস্তা টিকিট পেতে অনলাইন বুকিং এবং অগ্রীম বুকিং এর সুবিধা নেওয়া ভালো।

লাগেজ নিয়মাবলী

লাগেজ নিয়ে যাত্রীদের কিছু সাধারণ নিয়ম জানা থাকা জরুরি। ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীরা সাধারণত ২০ কেজি পর্যন্ত চেক কৃত মালামাল (checked baggage) এবং ৭ কেজি পর্যন্ত কেবিন লাগেজ (cabin baggage) বহন করতে পারেন। বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য এই সীমা একটু বেশি। তারা ২৫ কেজি চেক কৃত মালামাল এবং ৭ কেজি কেবিন লাগেজ বহন করতে পারবেন।

তবে, এই সীমা সব এয়ারলাইন্সের জন্য এক নয়। কিছু এয়ারলাইন্স কম ভাড়ার জন্য লাগেজের সীমা কমিয়ে দেয়। যেমন, কিছু কম খরচের এয়ারলাইন্সে মাত্র ১৫ কেজি লাগেজ দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত লাগেজ ফি

যদি আপনার লাগেজ নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে আপনাকে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে। এই ফি এয়ারলাইন্স ভেদে ভিন্ন হয়। সাধারণত প্রতি কেজি অতিরিক্ত লাগেজের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। সঠিক তথ্যের জন্য আপনার এয়ারলাইন্সের গ্রাহক সেবা বা ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করা ভালো।

সঠিক ফ্লাইট বাছাই করার টিপস

ঢাকা থেকে কলকাতা বিমানের সময়সূচী ও ভাড়া নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কিছু টিপস মেনে চলতে পারেন। প্রথমে আপনার বাজেট নির্ধারণ করুন। যদি বাজেট কম থাকে, তাহলে নভোএয়ার বা ইন্ডিগোর প্রোমোশনাল অফারগুলো খোঁজা ভালো। অন্যদিকে, যদি আরাম এবং সেবা নিশ্চিত করতে চান, তাহলে বিমান বাংলাদেশ বা ভিস্তারা ভালো অপশন হতে পারে।

এছাড়া ফ্লাইটের সময়সূচী আপনার প্রয়োজনের সাথে মিলিয়ে দেখুন। আপনি যদি সকালে কলকাতা পৌঁছাতে চান, তাহলে বিমানের সকালের ফ্লাইট বেছে নিন। আর যদি বিকেলে যেতে চান, তাহলে নভোএয়ারের ফ্লাইট আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সময়সূচী ও ভাড়া যাচাই করে নিন।

ভ্রমণের সময় কিছু সতর্কতা

ভ্রমণের আগে অবশ্যই আপনার পাসপোর্ট, ভিসা, এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট চেক করে নিন। কলকাতা যাওয়ার জন্য ভারতীয় ভিসা প্রয়োজন। এছাড়া বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় নির্ধারিত সময়ের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। বিশেষ করে যদি আপনি অনলাইনে চেক-ইন না করে থাকেন, তাহলে আরও সময় নিন।

যাত্রীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যাগেজের ওজন এবং আকার। অনেক সময় কেবিন লাগেজের সাইজ নিয়ে সমস্যা হয়। তাই আগে থেকেই জেনে নিন আপনার এয়ারলাইন্স অনুমোদিত কেবিন লাগেজের মাপ কী।

সবশেষ কথা

ঢাকা থেকে কলকাতা ফ্লাইটের ভাড়া এবং সময়সূচী নিয়ে অনেক তথ্য থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক সময়ে বুকিং দেওয়া। গ্রীষ্মের মৌসুমে, বিশেষ করে মে-জুন মাসে, অনেক যাত্রী এই রুট ব্যবহার করেন। তখন ভাড়া বেড়ে যায় এবং সিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আপনার ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণ করলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টিকিট বুক করে ফেলুন।

আশা করি, এই গাইডটি আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনায় সহায়ক হবে। কোন প্রশ্ন থাকলে নিচের FAQ অংশটি দেখতে পারেন, অথবা সরাসরি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ঢাকা থেকে কলকাতা বিমানের সময়সূচী কী কী?

ঢাকা থেকে কলকাতার ফ্লাইটগুলো প্রধানত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং নভোএয়ার পরিচালনা করে। বিমানের প্রথম ফ্লাইট সকাল ১০:১৫ এবং দ্বিতীয় ফ্লাইট সন্ধ্যা ৭:১০ মিনিটে ছাড়ে। নভোএয়ার প্রতিদিন একটি ফ্লাইট পরিচালনা করে যা বিকেল ৫:৩০ মিনিটে ঢাকা ছাড়ে।

সবচেয়ে সস্তা ফ্লাইট কোনটি?

বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য নভোএয়ার একটি ভালো অপশন হতে পারে, যার ভাড়া শুরু হয় ৪,০০০ টাকা থেকে (স্পেশাল প্রোমো সহায়ক)। ইন্ডিগোও প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া দেয়, যার সর্বনিম্ন ভাড়া ১০,০০০ টাকা। তবে সব সময় কম ভাড়া নিতে অগ্রীম বুকিং এবং অফার চেক করা জরুরি।

মালিন্দো এয়ারওয়েজের ভাড়া এত বেশি কেন?

মালিন্দো এয়ারওয়েজ একটি প্রিমিয়াম সার্ভিস প্রদান করে, যা সেবায় উচ্চমান বজায় রাখে। তাদের ভাড়া সাধারণত ৪৮,০০০ থেকে ৬২,০০০ টাকা পর্যন্ত, যা অন্যান্য এয়ারলাইন্সের তুলনায় বেশি। তবে তারা আরামদায়ক সিট, ভালো খাবার এবং উচ্চমানের ইন-ফ্লাইট সেবা দিয়ে থাকে।

কত কেজি লাগেজ বহন করা যাবে?

ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীরা সাধারণত ২০ কেজি চেক কৃত মালামাল এবং ৭ কেজি কেবিন লাগেজ বহন করতে পারবেন। বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরা ২৫ কেজি চেক কৃত মালামাল বহন করতে পারবেন। তবে, প্রতিটি এয়ারলাইন্সের নিজস্ব নিয়ম থাকতে পারে, তাই বুকিংয়ের সময় নিয়মগুলো জেনে নেওয়া ভালো।

অতিরিক্ত লাগেজের জন্য কত টাকা দিতে হবে?

অতিরিক্ত লাগেজের ফি এয়ারলাইন্স ভেদে ভিন্ন হয়। সাধারণত প্রতি কেজি অতিরিক্ত লাগেজের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। সঠিক তথ্য জানতে আপনার এয়ারলাইন্সের গ্রাহক সেবা বা ওয়েবসাইট দেখুন।

সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি ফ্লাইট বুকিং করার জন্য?

সাধারণত ফ্লাইটের ৪-৬ সপ্তাহ আগে বুকিং করলে সাশ্রয়ী ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া মঙ্গলবার বা বুধবারের মতো কম চাহিদার দিনে বুকিং করলেও ভাড়া কম হতে পারে। উৎসব বা ছুটির মৌসুম এড়িয়ে চললে ভাড়া আরও কম রাখা সম্ভব।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে লাগেজের নিয়ম কী?

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীরা ২০ কেজি চেক কৃত মালামাল এবং ৭ কেজি কেবিন লাগেজ বহন করতে পারেন। বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরা ২৫ কেজি চেক কৃত মালামাল এবং ৭ কেজি কেবিন লাগেজ বহন করতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top