google.com, pub-8608639771527197, DIRECT, f08c47fec0942fa0

শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক ২০২৬। গুলশানের সবুজ প্রাণকেন্দ্র ও ইতিহাসের স্মারক

ঢাকার একেবারে ব্যস্ততম এলাকা গুলশানে অবস্থিত একটি নির্মল ঠিকানা শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক। কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে মনের শান্তি ফিরে পেতে, সকালের হাঁটার জন্য কিংবা শিশুদের নিয়ে বিকেল কাটানোর জন্য এটি অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। তবে পার্কটির ইতিহাস, নামকরণ ও অজানা দিকগুলো অনেকের কাছেই অজানা। আসুন জেনে নেওয়া যাক শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক কোথায়, কখন খোলা থাকে, সেখানে কী কী সুবিধা আছে এবং কেন এই নামকরণ।

পার্কটির অবস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থা

গুলশান ও নিকেতন এলাকার মিলনস্থলে অবস্থিত এই পার্কের সঠিক ঠিকানা হলো—পুলিশ প্লাজার ঠিক পশ্চিম দিকে, রাস্তার উল্টো পাশে। আগে পার্কটির নাম ছিল গুলশান সাউথ পার্ক। বর্তমানে এটি শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক নামে পরিচিত। গুলশান-১ নম্বর মোড় থেকে পুলিশ প্লাজার দিকে গেলে মাত্র ৫০ মিটার দূরেই চোখে পড়বে সুসজ্জিত পার্কের গেট। অটোরিকশা ও সিএনজিতে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়।

শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি কে? নামকরণের ইতিহাস

পার্কটির নামকরণ করা হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বির নামে। তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল মেডিসিন ও কার্ডিওলজি বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর আল-বদর তাঁকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তিন দিন পর রাজারবাগ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। বুদ্ধিজীবীদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের এক অবিস্মরণীয় নাম ডা. ফজলে রাব্বি। ২০২৪ সালের দীর্ঘ সংস্কার শেষে পার্কটি তাঁর নামে উৎসর্গ করা হয়।

আধুনিক সংস্কার ও পার্কের অবকাঠামো

প্রায় ৬.৩৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কটি সম্পূর্ণ কাচের দেয়াল দিয়ে ঘেরা। সংস্কারের পর পার্কটিকে আধুনিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য সমন্বয় হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। নিচে পার্কের প্রধান সুবিধাগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:

  • হাঁটার ট্র্যাক: উন্নত টাইলস দিয়ে তৈরি মসৃণ ও প্রশস্ত ফুটপাত
  • বসার ব্যবস্থা: সারি সারি বেঞ্চ ও নান্দনিক বসার জায়গা
  • শিশুদের কর্নার: নিরাপদ খেলার জায়গা ও রঙিন সরঞ্জাম
  • সবুজায়ন: প্রায় ৪০০টি দেশি-বিদেশি বৃক্ষ
  • ফোয়ারা ও ভাস্কর্য: নান্দনিক নির্মাণশৈলী
  • পর্যাপ্ত আলো: সন্ধ্যায় ঘোরার জন্য উন্নত লাইটিং ব্যবস্থা

শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক আধুনিক নকশা ও সবুজ আয়োজনের মিশ্রণে গুলশানের দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রাত্যহিক হাজারো মানুষ হাঁটতে, ব্যায়াম করতে ও অবসর কাটাতে আসেন।

প্রবেশের সময়সূচী ও টিকিটের তথ্য

পার্কটি প্রতিদিন উন্মুক্ত থাকে। তবে সংস্কারের পরও কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময় বজায় রেখেছে।

  • সকাল: সকাল ৭:০০ টা থেকে ১১:০০ টা
  • বিকাল: বিকাল ৩:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা
  • প্রবেশ টিকিট: বিনামূল্যে (এখন পর্যন্ত)

দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত পার্কটি সাধারণত পরিচর্যার জন্য বন্ধ থাকে। ভ্রমণের আগে একবার খোলা-বন্ধের সময় জেনে নেওয়া ভালো।

সকাল ও সন্ধ্যা: কখন যাবেন?

পার্কের সকালের নিস্তব্ধতা ও হাঁটার উপযোগী আবহাওয়া শরীর ও মন দুই-ই ভালো রাখে। সকাল ৭টার সময় পার্ক থাকে পরিপাটি ও ফাঁকা। শীতকালে সকালের দিকটাই বেশি স্বস্তিদায়ক। অন্যদিকে সন্ধ্যেবেলায় আলোর রোশনাই আর শীতল বাতাস শিশুদের খেলার জন্য চমৎকার। ভিড় এড়াতে দুপুরের পরিবর্তে সকাল সকাল যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

পার্কটির প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ ও মতামত

গুলশান, বনানী ও নিকেতনের বাসিন্দাদের কাছে পার্কটি এক প্রাণের জায়গা। যারা সপ্তাহান্তে ছুটে আসেন, তারা পরিবার নিয়ে বেশ কিছু সময় কাটান। কেউ কেউ পার্কটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর সবুজায়নের প্রশংসা করেন। আবার কেউ কেউ বলছিলেন, “পার্কটি অত্যন্ত শান্ত কিন্তু বসার জন্য পর্যাপ্ত ছায়া না থাকায় একটু অসুবিধা হয়। তবে সার্বিকভাবে এটি গুলশানের সেরা জায়গাগুলোর একটি।”

পার্কের পরিচালনা ও নিরাপত্তা

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এই পার্কটি পরিচালনা করে। রক্ষণাবেক্ষণে গুলশান সোসাইটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সহায়তা করে থাকেন। সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তারক্ষী থাকায় যাত্রীরা নিরাপদ বোধ করেন। তবে কখনো কখনো পার্কের বন্ধের সময় ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া যায়—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সচেতন।

পার্ক সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান

শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান:

  • গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদ (হাঁটার দূরত্ব)
  • পুলিশ প্লাজা ও গুলশান পুলিশ বক্স
  • নিকেতন মার্কেট ও বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট
  • গুলশান ও বনানী স্টেশন (মেট্রো রেল)

পার্ক ঘুরে খেতে চাইলে নিকেতনের ফুপ কোর্ট ও গুলশান অ্যাভিনিউয়ের রেস্টুরেন্টগুলোতে যেতে পারেন।

ছবি তোলার জন্য একটি উপভোগ্য জায়গা

অনেক ভ্রমণপিয়াসী পার্কটিকে ফটোগ্রাফির জন্য চমৎকার জায়গা বলে মনে করেন। ফোয়ারা ও ভাস্কর্যের পাশাপাশি সন্ধ্যার আলোকচিত্র তুলতে ইচ্ছে করে। পরিবারের ছবি তোলার জন্যও এখানকার পটভূমি খুব সুন্দর।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: পার্কটি ঢাকার গুলশান-১ ও নিকেতন এলাকায়, পুলিশ প্লাজার ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত।

শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্কে প্রবেশ ফি কত?
উত্তর: বর্তমানে পার্কটিতে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা প্রবেশ ফি লাগে না। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত।

পার্কটি কোন সময় খোলা থাকে?
উত্তর: সকাল ৭-১১টা ও বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকে।

শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও একাত্তরের বুদ্ধিজীবী শহীদ।

শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা কী আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, পার্কের মধ্যেই একটি নিরাপদ ও রঙিন খেলার জায়গা শিশুদের জন্য বানানো আছে।

পার্কটিতে কি ব্যায়ামের সরঞ্জাম আছে?
উত্তর: বর্তমানে ব্যায়ামের পৃথক যন্ত্রপাতি না থাকলেও হাঁটার ট্র্যাক ও খোলা জায়গা শরীরচর্চার জন্য দারুণ উপযোগী।

গাড়ি রাখার ব্যবস্থা আছে?
উত্তর: সংস্কারের পর গাড়ি রাখার এখনো আলাদা পার্কিং চালু হয়নি। আশপাশের রাস্তায় অস্থায়ীভাবে গাড়ি রাখতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top